আয়ুর্বেদিক উপায়ে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি

|| আয়ুর্বেদিক উপায়ে বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি ||

Ayurvedic way to get rid of arthritis pain

          আজকাল বাতের ব্যথার সমস্যা মানুষের বাঁধার সৃষ্টি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর লক্ষাধিক মানুষ এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। এমন একটা দেশ যেখানে শত বছর ধরে বিভিন্ন জটিল রোগ আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে ঠিক হয়েছে। সেই দেশে কি করে সামান্য বাতের ব্যথা আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলাতে পারে। তাই নিচে দেওয়া পরামর্শগুলি যদি আপনি প্রয়োগ করেন তাহলে আপনি সম্পূর্ণ বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।
          প্রথমে জানা দরকার বাত কি? যখন হাড়ে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে থাকে তখন বাতের আকার ধারণ করে। ইউরিক অ্যাসিড বিভিন্ন রকম খাবার খাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়। রোগীর এক বা একাধিক হাড়ের জোড়ায় ব্যথা হয় এবং ফুলে যায়। এজন্য এই রোগ কে বাত বলা হয়। এটা অনেক ধরনের হয়। যেমন - Acute, Osteo, Rheumatoid, Gout ইত্যাদি। একে ইংরেজিতে Arthritis বলে।

আয়ুর্বেদিকে বাতের ব্যথার সমাধান :-


  • প্রয়োজন মতো ক্যাস্টর-এর দানা গুঁড়ো করে নিতে হবে। ৬ গ্রাম করে নিয়মিত দিনে তিনবার গিলোয়-এর রসের সাথে খেতে হবে। প্রথমে গুঁড়োকে মুখে নিয়ে তারপর গিলোয়-এর রস ঢেলে একসাথে খেয়ে নিতে হবে। রস বানানোর জন্য প্রথমে গিলোয়-কে কেটে আড়াইশো গ্রাম জলে ফোটাতে হবে। যখন জল চার ভাগের এক ভাগ হয়ে যাবে, তখন নামিয়ে ছেঁকে নেওয়ার পর তৈরী গিলোয়-এর রস। এই কথাটা বিশেষ করে মনে রাখতে হবে যে, ক্যাস্টর মহিলাদের গর্ভবতী-তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই মহিলারা যেন এর প্রয়োগ না করে। তারা এমন কিছু ব্যবহার করুন যেখানে ক্যাস্টর-এর প্রয়োগ নেই।
  • অশ্বগন্ধা গাছের মূল এবং কান্ড সমান মাত্রায় মিশিয়ে নিয়ে সেটাকে ভালো করে গুঁড়ো করে নিতে হবে। তারপর প্রত্যেকদিন গরম দুধের সাথে প্রায় ৫-১০ গ্রাম মিশিয়ে খাওয়া শুরু করে দিন। এতে বাতের ব্যথায় খাটে পড়ে থাকা রোগীও সুস্থ হয়ে যাবে।
  • ১০ গ্রাম লবন, ৬ গ্রাম কালোজিরে, অর্ধেক গ্রাম আফিম ভালো করে বেটে নিতে হবে। তারপর এটা নিয়মিত প্রত্যেকদিন মালিশ করলে বাতের ব্যথা ঠিক হয়ে যায়।
  • ১০ গ্রাম কর্পূর এবং ৪০০ গ্রাম তিলের তেল নিয়ে দুটোকে মিশিয়ে শিশির মধ্যে ভোরে রেখতে হবে এবং ঢাকনা আটকে দিয়ে রোদে রেখে দিতে হবে। তারপর রোজ নিয়মিত এই তেল জোড়ায় এবং ব্যাথার জায়গায় ভালভাবে মালিশ করলে বাতের ব্যথা আস্তে আস্তে কমে যেতে থাকে।

বাতের ব্যাথা হলে কি খাওয়া উচিত :-

    এই সময় এমন খাবার খাওয়া উচিত যা তাড়াতাড়ি হজম হয় এবং শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখবে। আর ভুসিযুক্ত আটার রুটি এবং খোসাযুক্ত মুগ ডাল খাওয়া উচিত। এছাড়া সবুজ শাকসবজি যেমন- কাকরোল, বাঁধাকপি, গাজর, লাউ, লঙ্কা ইত্যাদি খাবেন। দুধ এবং দুধ দিয়ে বানানো পদার্থ খাওয়া যাবে। তবে দই, লেবু ইত্যাদি কোনো টক জিনিস খাওয়া যাবে না।
    আপনি যদি উপরের যেকোনো দুটো জিনিস প্রয়োগ করেন তাহলে অবশ্যই আপনি বাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।

এরকম আরো অন্যান্য আয়ুর্বেদিক টিপস সম্পর্কে জানতে এই লিংকে ক্লিক করুন।

মন্তব্যসমূহ